ধারা ৩৭৭ – খবর এখন (চোখ রাখুন কখন কি হচ্ছে জানতে)

ধারা ৩৭৭ – খবর এখন (চোখ রাখুন কখন কি হচ্ছে জানতে)

** আইনি হিসেব নিকেশ বুঝিনা, যেটুকু বুঝি সেটুকুই বন্ধুদের জন্যে সংক্ষেপে

১৭ই জুলাই ২০১৮

১০. যেসকল পক্ষ ৩৭৭এর এই মামলায় পক্ষে/বিপক্ষে সওয়াল করেছেন, তাদের সবাইকে সুপ্রিমকোর্ট এই শুক্রবার (২০শে জুলাই) এর মধ্যে তাদের বক্তব্য লিখিতভাবে জমা দিতে বলেছে। এবার শুধু ফলাফলের অপেক্ষা।

৯. এর পরে আরো দুই উকিল ৩৭৭ ধারার পক্ষে সওয়াল করেন এবং এর সাথেই শেষ হলো ৩৭৭ ধারার শুনানি।

৮. দুপুরের খাওয়ারের পরে আরেক আইনজীবী রাধাকৃষ্ণণ আবারো এইডসের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে বিচারক ইন্দু মালহোত্রা জানান, এইডস কিন্তু শুধু সমকামী নয় বিসমকামীদের মধ্যেও ছড়ায়। বিচারক চন্দ্রচূড় জানান গ্রামের কোন বিসমকামী পুরুষ বাইরে গিয়ে মারণরোগ বহণ করে গ্রামে নিজের পরিবারের মধ্যে ছড়ায়। অসুবিধেটা যৌনক্রীয়ার নয়, বরং অসুরক্ষিত যৌনক্রীয়ার।

৭. শ্রী জর্জ অনুরোধ করেন যাতে ৩৭৭কে জামিনযোগ্য করা হয়, আর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছায়ারা যাতে এই ধারার আওতায় কাউকে গ্রেপ্তার না করা যায়, শুধু এইটুকুই যেন পরিবর্তন আনা হয়, এই বলে তিনি রণে ভঙ্গ দেন, থুড়ি, ক্ষান্ত হন।

৬. শ্রী জর্জ জানান অবাধ সমকামিতা এইডস প্রভৃতি ছোঁয়াচে রোগের কারন, যার উত্তরে বিচারক চন্দ্রচূড় বলেন সঠিক তথ্য আর রোগীদের গ্রহণযোগ্যতাই ছোঁয়াচে রোগের প্রসারে রাশ টানোট সাহায্য করে। এ বিশয়ে জাসটিস নারিমান খুব সুন্দর একটি বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন যৌনকর্মীদের নিয়েও এভাবে ভাবা যায়। যদি যৌনকর্মীদের কাজকে আইনি বৈধতা দেওয়া যায়, আর তাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে তাদেরো স্বাস্থ্য আর অধিকারকে সুনিশ্চিত করা যাবে৷ আজ ৩৭৭ ধারার শুনানি যৌনকর্মীদের লড়াইকেও আরো এক ধাপ এগিয়ে দিলো।

৫. শ্রী জর্জের কথার উত্তরে বিচারক শ্রী নারিমান আরো একটি সুন্দর মন্তব্য করেন। তিনি জানান যে মৌলিক অধিকারের মূল লক্ষ্যই হলো, বস্তাপচা সেইসব আইন যেগুলিকে সংখ্যাগুরু তোষণের সরকার সরাতে চায়না সেগুলিকে বাতিল করা। আর সুপ্রিমকোর্ট এই ব্যাপারে সরকারের জন্যে অপেক্ষা করবেনা। কোন আইন যদি সংবিধানের পরিপন্থী হয়, কোর্টই তা বাতিল করে দেবে।

৪. শ্রী জর্জ ৩৭৭ ধারা সরে গেলে অন্যান্য আরো অসুবিধে হতে পারে বলে জানান। বিচারক নারিমান জানান তাতে সমস্যা নেই, সে শিশুকামিতা, পশুকামিতা ইত্যাদিকে ৩৭৭এর আওতায় একইভাবে রেখে দেওয়া যাবে না হয়।

৩. শ্রী জর্জ যে লিখিত বয়ান কোর্টের সামনে পেশ করেন, তাতেও এই বিদ্বেষের ছোয়াঁচ যথেষ্ট। মূখ্য বিচারক শ্রী মিশ্রা ওনাকে দোন কিখোতে-র কবিতা পড়ার পরামর্শ দেন৷ যাতে উনি ভালোবাসা সম্পর্কে নিজের ধারণাকে আরো প্রসারিত করতে পারেন।

২. দুটি খ্রিস্টান সংগঠনের হয়ে আইনজীবি মনোজ জর্জ সওয়াল করছেন। এবং এই নিরিখে সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের কিছু মন্তব্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। শ্রী জর্জ একটি সমীক্ষা থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত করে বলেন বয়ঃসন্ধিতে সমলিঙ্গে আকর্ষণ পরিণত বয়সে আর থাকেনা। এত উত্তরে বিচারক চন্দ্রচূড় বলেন, যে ওয়েবসাইটে এই সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে তাতে লিঙ্গ-যৌণ-প্রান্তিক মানুষদের প্রতি প্রভূত বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়েছে।

১. শুনানি শুরুর অপেক্ষায়।

১৬ই জুলাই ২০১৮

১. আজ সুপ্রিমকোর্টে ৩৭৭ ধারার শুনানি নেই, তবে জানা যাচ্ছে এ বিষয়ে সর্বভারতীয় মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড আবার পালটি খেয়েছে। তারা আজ জানিয়েছে যে তারা ৩৭৭ ধারাকে সমর্থন করেন। বোর্ডের তরফে শ্রী জাফরইয়াব জিলানি জানান যে “সমকামিতা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক”। ভারতের সরকার ৩৭৭ ধারার বিষয়ে কোর্টে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ায় বোর্ড আপসোস জ্ঞাপন করে। শ্রী জিলানি বলেন “কেন্দ্রীয় সরকারের উচিৎ ছিলো ৩৭৭এর পক্ষে সুপ্রিমকোর্টে আইনি ভাবে সওয়াল করা”। তাহলে সর্বভারতীয় মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড কি আইনিভাবে আমাদের পথের কাঁটা হতে চলেছে সুপ্রিমকোর্টে? এর উত্তর সময়ই দেবে।

১৩ই জুলাই ২০১৮

১. আজ সুপ্রিমকোর্টে ধারা ৩৭৭এর কোন শুনানি নেই। তবে জানা যাচ্ছে যে সর্বভারতীয় মুসল পারসোনাল ল বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে যে তারা ৩৭৭এর ভবিষ্যৎ সুপ্রিম কোর্টের হাতেই ছেড়ে দেবে। অর্থাৎ শুনানি চলাকালীন তারা কোনভাবে আইনী পদ্ধতি অবলম্বন করে এর পক্ষে বা বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করবেনা।

১২ই জুলাই ২০১৮

৭. শুনানি আবার মঙ্গলবার ১৭ তারিখ। আজকের মতো শেষ।

৬. মূখ্য বিচারক দীপক মিশ্রা মন্তব্য করেছেন কোর্ট কখনোই সংখ্যাগুরু মানসিকতার উপরে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করবেনা। করবে সাংবিধানিক ভিত্তির উপরে।

৫. রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ জানিয়েছে যদিও ৩৭৭ ধারায় কাউকে আইনের চোখে অপরাধী সাব্যস্ত করার পক্ষে তারা নন, কিন্তু সমকামিতা কখনোই ভারতীয় সংস্কৃতি নয়।

৪. সর্বভারতীয় মুসলিম পার্সোনাম ল বোর্ডের সদস্য সৈয়দ কাসিম রসুল জানিয়েছেন যে তারাও ৩৭৭ এর পক্ষে সওয়াল করবেন। তিনি জানান সমকামিতা সমস্ত ধর্মেই নিন্দিত।

৩. এপস্টলিক চার্চের তরফে আইনজীবি শ্রী মনোজ ভি জর্জ ৩৭৭ এর পক্ষে পিটিশন জমা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন বাইবেলের মতে সোডমি বা পায়ুমেহণ গর্হিত অপরাধ।

২. অপেক্ষা শেষ । শুনানি আবার শুরু

১. সকাল সাড়ে এগারোটার অপেক্ষা

১১ই জুলাই ২০১৮

৯. শুনানি আবার কাল চালু হবে।

৮. বিভিন্ন আবেদনকারীর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবীরা যে সকল বিষয় উত্থাপন করেছেন, তার মধ্যে লিঙ্গ-যৌন-সংখ্যালঘুদের একসাথে মিলত হয়ে সংগঠন তৈরির পক্ষে বাঁধা এবং নালসা জাজমেন্টের পরেও রূপান্তরকামীদের পুলিশি নিগ্রহ গুরুত্বপূর্ন ।

৭. জানা যাচ্ছে যে মূখ্য বিচারক দীপক মিশ্রা মন্তব্য করেছেন দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরা নিজেদের ইচ্ছেয় নিজেদের ঘরে বিছানায় কি করবেন তা কখনোই বেয়াইনি হতে পারেনা। আশার আলো দেখছেন লিঙ্গ-যৌন-মানবাধিকারকর্মীরা।

৬. বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে যে কোর্টের তরফে মন্তব্য করা হয়েছে যে যৌনতা মানুষ নিজে পছন্দ করে বেছে নেয়না।

৫. সুপ্রিমকোর্টের রায় যেন কোনভাবে “বিকৃতরুচি” প্রদর্শনের রাস্তা খুলে না দেয় সে বিষয়ে নজর রাখারও অনুরোধ রাখা হয়েছে সরকারের হলফনামায়।

৪. কেন্দ্রীয় সরকারের হলফনামায় এও বলা আছে যে যদি এই শুনানি ৩৭৭ ধারার সাংবিধানিকত্ব অথবা দুজন প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মধ্যে পারষ্পরিক সম্মতিতে যৌনতার বাইরে গিয়ে বিয়ে বা দত্তক ইত্যাদি বিষয়ে অগ্রসর হয়, তাহলে সরকার আরো সুনির্দিষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করবে।

৩. বিচারক শ্রী চন্দ্রচূড় মন্তব্য করেছেন যে কোর্ট কখনোই চাইবেনা যে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হাতধরাধরি করে সমুদ্রসৈকতে হাঁটাচলা করলে পুলিশ তাদের ৩৭৭এর অছিলায় বন্দি করবে।

২. কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিমকোর্টে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে যে ৩৭৭ ধারা নিয়ে তারা কোন অবস্থান নেবেননা। উল্লেখ্য গতকাল থেকে বিভিন্ন মাধ্যম/সূত্র থেকে পাওয়া খবরে এ বিশয়ে বিভিন্ন জল্পনা তৈরি হয়েছিলো, সে সবের অবসান ঘটলো। ২০১৩ সালে সুপ্রিমকোর্ট সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছিলো ধারা ৩৭৭ ধারায় প্রয়োজনীয় রদবদল আনতে। এখন আবার সেটি বুমেরাং হয়ে ফিরে এলো কোর্টেরই কাছে। আবার এই সরকারই গতকাল শুনানি শুরুর আগে আরো একমাস সময় চেয়েছিলো নিজেদের অবস্থান সুস্পষ্ট করতে।

১. ১১ই জুলাই শুনানি শুরু হওয়ার অপেক্ষা।
১০ই জুলাই ২০১৮

১৭. কে কে ভেনুগোপালন, এটর্নি জেনারেল, জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার ৩৭৭ ধারার পক্ষে সওয়াল করবে। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় সরকার চায়, ৩৭৭ ধারা যেমন আছে, সেভাবেই বহাল তবিয়তে টিকে থাকুক।

১৬. আজকের মতো শুনানি শেষ। শুনানি কাল আবার শুরু হবে।
১৫. বিচারক শ্রীমতী ইন্দু মালহোতরা মন্তব্য করেছেন, সমকামিতা শুধু মানুষের মধ্যেই নয় প্রাণীজগতে বিভিন্ন প্রজাতিতেও এর অস্তিত্ব রয়েছে।
১৪. ৩৭৭ ধারার যৌক্তিকতাকে প্রশ্ন করে আবেদনকারী কেশব সূরির পক্ষে সওয়াল করছেন আইনজীবী অরবিন্দ দাতার।
১৩. সুব্রমনিয়ম স্বামী ৩৭৭ ধারার রয়ে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করার পড়ে রামদেব বাবা জানিয়েছেন ৩৭৭ ধারা সরে গেলে সারা দেশে এই নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ কর্মসূচী নেওয়া হবে।
১২. কেন্দ্রীয় সরকার সম্ভবত আজই এ বিশয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবে।
১১. শুনানি আবার চালু হয়েছে।
১০. সুপ্রিমকোর্টে এখন দুপুরের খাওয়ার বিরতি চলছে, এবং আজকে আর কি সামনে আসে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
৯. কেন্দ্রীয় সরকার এলজিবিটি (লিঙ্গ-যৌণ-সমান্তরাল) মানুষদের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
৮. শ্রী দীপক মিশ্রা জানিয়েছেন বিয়ে বা সন্তান দত্তক নেওয়ার বিষয়গুলি নির্দিষ্টভাবে ৩৭৭ ধারার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পড়ে আলোচনা হবে।
৭. শ্রী ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় সিং মন্তব্য করেছেন যৌনতার অধিকার মানুষের বৃহত্তর অধিকারের মধ্যে পড়ে।
৬. আইনজীবী মুকুল রোহাতগি, লিঙ্গ-যৌন-সমান্তরাল (এলজিবিটি+) মানুষদের সপক্ষে কোর্টে সওয়াল করছেন।
৫. সুপ্রিমকোর্টের তরফে জানানো হয়েছে যে শুধুমাত্র আইনজীবীরাই নন, অন্যান্য অনেকেই এ ব্যাপারে কোর্টে নিজেদের বক্তব্য রাখতে পারে।
৪. শ্রী রোহিনতন এফ নারিমান মন্তব্য করেছেন যে যৌন অভিমুখিতা কখনই অপ্রাকৃতিক নয়।
৩. সরকারী আইনজীবী শ্রী তুষার মেহতার তরফে জানানো হয়েছে, শুনানি চলাকালীন সরকার নিজের অবস্থান কোর্টকে জানাবে। এবং সরকারকে আরো সময় দেওয়া উচিৎ ছিলো বলে জানিয়েছেন।
২. পাঁচজন বিচারক এই শুনানি শুনছেন। আছেন মুখ্য বিচারক শ্রী দীপক মিশ্রা, বাকি চারজন হলেন শ্রীমতী ইন্দু মালহোতরা, শ্রী এ কে খানউইলকার, শ্রী ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় সিং এবং শ্রী রোহিনতন এফ নারিমান।
১. ৩৭৭ ধারার শুনানি শুরু হয়েছে সুপ্রিমকোর্টে আজ বেলা সাড়ে এগারোটায়।
[ছবিঃ অরূপ দাস]

কাল সুপ্রিম কোর্টে ৩৭৭ ধারার শুনানি – অপেক্ষায় আমরা সবাই

কাল সুপ্রিম কোর্টে ৩৭৭ ধারার শুনানি – অপেক্ষায় আমরা সবাই

— অনিরুদ্ধ (অনির) সেন / নিজস্ব সংবাদদাতা

কাল ভারতের সুপ্রিম কোর্টে সেই মহা লগ্ন, যার অপেক্ষায় ছিলো ভারতবর্ষের আপামর লিঙ্গ-যৌন-প্রান্তিক বা এলজিবিটি নাগরিক। হ্যাঁ, কাল সুপ্রিমকোর্টের পাঁচজন বিচারকের সামনে কাঠগড়ায় ধারা ৩৭৭, যা সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদন্ডের অভিশাপ বয়ে আনতে পারে তাদের জীবনে যারা পুরুষ-লিঙ্গ-দন্ড আর নারী-যোণীর সংগমব্যাতিত অন্য কোনভাবে সংগমসুখে আনন্দলাভ করেন। স্বভাবতই শুধুমাত্র বিছানায় নয়, বিছানার বাইরেও এই ধারা বারবার প্রযুক্ত হয়েছে এলজিবিটি+ মানুষদের হেয় করার জন্যে,বা কখনো ব্ল্যাকমেল করার জন্যেও। ৩৭৭ না সরলে সম-দৈহিক-লিঙ্গে বিবাহের ক্ষেত্রেও রয়ে যাবে এক বড়ো বাধা। বিভিন্ন দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ন মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার স্পষ্ট করেছে যে সমকামী যৌনাচার সম্পূর্ন স্বাভাবিক । তবুও ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আইন হিসেবে ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধানেও জায়গা করে নেয় এই বস্তাপচা আইন। শুধু ভারত নয়, পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ আরো অনেক দেশই এখনো এই আইনের আওতায় বাঁধা, তারা তাদের লিঙ্গ-যৌন-প্রান্তিক নাগরিকদের সমানাধিকার সুনিশ্চিত করতে অক্ষম। তবে কি কাল অন্তত ভারতের ইতিহাস থেকে অবসান হতে চলেছে এই কলঙ্কিত অধ্যায়ের?

২০০৯ সালে দিল্লী হাইকোর্টের কলমের খোঁচায় অসাংবিধানিক তকমা পায় ৩৭৭, কিন্তু ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে, সুপ্রিমকোর্ট সেই রায়কে নস্যাৎ করে ভারতের সরকারের হাতে দায়িত্ব চাপায় ৩৭৭ ধারা নিয়ে আলোচনা করে তাতে প্রয়োজনীয় রদবদল আনার। কিছু মন্ত্রী আমলা লোকসভা/রাজ্যসভার ভিতরে বা বাইরে এই নিয়ে মাঝেমধ্যে মন্তব্য করেছেন, বা বিল আনারও চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অন্যদিকে সুপ্রিমকোর্টের সামনে এই নিরিখে দাখিল হয়েছে একের পরে আরেক পিটিশন, কখনো মুখচেনা মানবাধিকারকর্মীদের তরফে, কখনো বা সাংস্কৃতিক মহল থেক।

সম্প্রতি আইআইটির ২০জন প্রাক্তনী এবং ছাত্রেরা মিলে আবারো সুবিচার চেয়ে দারস্থ হন সুপ্রিমকোর্টের কাছে, এর নিরিখে মে মাসে কোর্ট বয়ান জারি করে এ বিষয়ে সরকারকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে নির্দেশ দেয়। গড়িমসি করে সরকার সে ব্যাপারে কোন ইঙ্গিত না দেওয়ায়, সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় ১০ই জুলাই শুনানির তারিখ হিসেবে ধার্য করেন৷ এর পরেই তড়িঘড়ি সরকারের তরফে আর্জি জানানো হয় শুনানির তারিখ আরো এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার জন্যে। কোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, যেহেতু এই বিষয়ে অবস্থান নেওয়ার জন্যে সরকার প্রায় সাড়ে চার বছর সময় পেয়েছেন, তবুও কিছুই করেনি, তাই আর সময় দেওয়া সম্ভব না। অতএব কাল শুনানি হচ্ছে সে বিষয়ে আর কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।

প্রসংগত উল্লেখ্য, ৩৭৭ ধারার বন্দুকের ডগায়, শুধুমাত্র সমকামী পুরুষেরা নয়, সমকামী নারী, উভকামীরা, এবং সম্পুর্ণরূপে দৈহিক-লিঙ্গ পরিবর্তন না করে ওঠা অথবা করতে না চাওয়া রূপান্তরকামীরাও এর আওতায় আসেন৷ এ ছাড়া প্যান্সেক্স্যুয়াল প্রভৃতি অন্যান্য যৌন-সমান্তরাল মানুষেরাও বাদ যাননা। বিছানায় “পাপ-কাজ” করেছো কি মরেছো।

তবে আর নয়। সম্প্রতি গোপণীয়তার অধিকার, নিজের ইচ্ছে মতো সঙ্গী নির্বাচনের অধিকার, ইত্যাদি কালজয়ী রায়গুলি অনেকাংশে সুপ্রিমকোর্টকে খানিক বাধ্যই করবে, হয় ৩৭৭ ধারাকে কলমের খোঁচায় বাতিল করতে, অথবা প্রয়োজনীয় রদবদল আনতে। ঐতিহাসিক নালসা রায়ও কাল কোর্টে লিঙ্গ-সমান্তরাল মানুষদের যৌনতার সমানাধিকারকে আবার করে ভাবতে বাধ্য করবে। তবুও না আঁচালে বিশ্বাস নেই বাবা।

সবার পাখির চোখ অতএব কালকের সুপ্রিমকোর্ট। শুনানি কতোদিন ধরে চলবে জানিনা। রায় কি আসতে চলেছে সে ব্যাপারেও আমরা অনিশ্চিত। ধর্মীয় এবং সামাজিক গোঁড়া সংগঠনগুলি এর বিরুদ্ধাচরণ করবে তাও মোটামুটি সুনিশ্চিত । সরকার কি অবস্থান নেবে তাও জানা যাবে হয়তো, যদি আদৌ তারা কোন অবস্থান নেয়। তবে যাই হোকনা কেন, লড়াই এখনো যে অনেকটা বাকি সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই৷ হয় আবার করে লড়াই, নয়তো বৃহত্তর আইনি/সামাজিক পদক্ষেপ, কালকের রায় আমাদের দেখাবে, এরপরের পথচলার রাস্টাটুকু। আপাতত আমাদের শ্লোগান হয়ে উঠুক “৩৭৭ ভারত ছাড়ো”। রামধনু আওয়াজে মুখরিত হোক দেশের আকাশ-বাতাশ-মাটি। ব্রিটিশদের নিজের দেশে ৫০ বছরেরও আগে লুপ্ত আইন, সরে যাক, তাদের এক সময়ের উপনিবেশগুলির থেকেও। ভারতবর্ষ, আবারো পথ দেখাক, সত্যিকার স্বাধীনতার মানে পৌঁছে দিক, ৩৭৭ এর অভিশাপ বয়ে চলা বাকি দেশগুলিকেও।

ছবিসূত্রঃ উইকিপিডিয়া (ক্রিয়েটিভ কমন লাইসেন্স)