কাঁচালঙ্কা

“আবেদনকারী নাটক করছেন, অপ্রয়োজনীয় চাঞ্চল্য তৈরি করার চেষ্টা করছেন” – সমলিঙ্গ বিবাহের শুনানির সরাসরি সম্প্রচারের আবেদনে প্রতিক্রিয়া কেন্দ্র সরকারের

ছবিঃ সমঋথ (কাঁচালঙ্কার আর্কাইভ থেকে)

“সবকা সাথ, সবকা বিকাশ” এই মন্ত্র যতোই আউরে চলুন নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং, তাঁর নেতৃত্বে পথচলা বর্তমান ভারত সরকারের একের পর আরেক সংখ্যালঘুবিরোধী পদক্ষেপ জনমানসের একাংশে বার বার উস্কে দিচ্ছে সন্দেহের বীজ। তা সে ধর্মীয় সংখ্যালঘুই হোক কিম্বা লিঙ্গ অথবা যৌন সংখ্যালঘু। সম্প্রতি দিল্লির উচ্চ আদালতের সামনে হিন্দু বিবাহ আইনের আওতায় দুই শারীরিকভাবে পুরুষ অথবা দুই শারীরিকভাবে মহিলার বিয়ের আইনি স্বীকৃতির যে মামলা চলছে, তার সরাসরি সম্প্রচারের আবেদন জমা পরে। তারই উত্তরে ভারত সরকারের মন্ত্রী শ্রী কিরণ রিজিজুর অধীনে থাকা বিধি এবং ন্যায় মন্ত্রালয়ের পক্ষ থেকে জমা উত্তরে মোটেই খুশী নন বিচারকমণ্ডলী।

কার্য্যনির্বাহক প্রধান বিচারক শ্রী ভিপিন সাংভি এবং বিচারক শ্রী নবীন চাওলা এই উত্তরের প্রসঙ্গে সরকারি পক্ষের উকিলকে ভর্তসনা করেন। “আপনাদের উত্তরে যদি আপত্তিকর কিছু থাকে, তাহলে তা জমা দেবেননা আপনারা। কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে আসা এই উত্তর গ্রহণযোগ্য নয়। (জমা দেওয়ার আগে) এগুলি পুনঃপরিক্ষিত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এরকম নির্বোধের মতো কাজ করবেননা। এরকম চলতে পারেনা।” — মন্তব্য করে উত্তরটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণে অস্বীকৃত হন তারা। কিন্তু কি বলা হয়েছিলো সরকারের উত্তরনামায়?

“আদালতের সামনে উপস্থাপিত বিষয়বস্তুর যোগ্যতা আর তার ফলাফল আবেদনকারীর দ্বারা প্রস্তাবিত অতিরঞ্জিত নাটকের উপরে নির্ভর করেনা, এতে তাদের প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। আবেদনকারী চাইছেন এর মাধ্যমে জনগণের সহানুভূতী আদায় করতে আর অদরকারী দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। এই মুহূর্তে দৈনিকভাবে যা চলছে, মহামান্য আদালতের এর চেয়ে বেশী বিস্তৃতি বা দর্শকসংখ্যার প্রয়োজন নেই। আবেদনকারী এই রিটের দুর্বল জায়গাগুলি থেকে নজর ঘোরাতে চাইছেন, এবং সর্বোচ্চ আদালতের প্রস্তাবিত স্বচ্ছ বিচারের এক ভুল মানে খাড়া করতে চাইছেন। আবেদনকারীর লক্ষ্য হলো, এই বিষয়ের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।”

বস্তুত, শ্রী অভিজিৎ আইয়ার মিত্র, ভারতীয় হিন্দু বিবাহ আইনের আওতায় দুই পুরুষ অথবা দুই মহিলার বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য জনস্বার্থ মামলা করেন। তার পরে আরো তিনজন লিঙ্গ-যৌণ-সংখ্যালঘু মানুষ, যারা মুম্বাই এবং কর্নাটকে থাকেন, তারা এই মামলার শুনানির সরাসরি সম্প্রচারের আবেদন জানান। স্বাভাবিকভাবেই এই মামলা হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত সেসকল সমকামী মানুষদের জন্য বিশেষ আগ্রহের যারা নিজের পছন্দমতো বিবাহ করেছেন, বা বিবাহ করতে চান। অন্য একটি মামলায় ডাঃ কবিতা অরোরা তার সমলিঙ্গে সামাজিক বিবাহকে বিশেষ বিবাহ আইনের আওতায় লিপিবদ্ধ করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

Exit mobile version