আমার শৈশব ও পাটিগণিত

আমাদের কৈশোর, আমার পাটিগণিতের ভুলে ভরা কৈশোর। প্রত্যেকে নিজের এই বয়স-পর্বের নস্টালজিয়া স্ব-স্ব ভাবে উদযাপন করে। এই সময়ে পাতাবাহারের রঙ এসে লেগেছিল শরীরে। সাইকেল শিখতে শিখতে চিনেছিলাম বাস্তুতন্ত্র। শিখেছিলাম ধাপে ধাপে এগিয়ে আসে খাদ্য ও খাদকের সম্পর্ক এবং উদ্বর্তনের খেলা। ‘কুছ কুছ হোত হ্যয়’ থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে সেই কৈশোর।
স্কুলের শেষ বেঞ্চের সেই ছেলে যেদিন হাতে হাত রেখেছিল সেদিন মুষলধারে বৃষ্টি নেমেছিলাম। ভিজেছিলাম খুব। ভিজতে ভিজতে তাঁর চৌকাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে দেখেছি এই ছোঁয়া একান্ত নয়, আমার একার নয়। সেই যে তার ছিন্ন হলো, তারপর কুন্তীতে কতবার প্যাঁচ লাগানোর চেষ্টা করা হলো। আমি কে! আমি কী!-এর মাঝে টলতে টলতে দেখলাম বিন্দু একদৃষ্টিতে চেয়ে আছে মৃণালের দিকে। কেউ বোঝেনি বিন্দুর চাওয়া, মৃণালও না, আমরাও না। ‘স্ত্রীর পত্র’ পড়ে বিন্দুকে আয়নায় দেখেছি বহুবার। নিজেকে বুঝতে বুঝতে নিজেকে হারিয়েছি, নিজেকে ভুলেছি বহুবার। অযাচিত হাতের ছাপ লেগেছে শরীরে, পুরুষ্টু বটের কাছে দেখেছি আমারই ক্ষতচিহ্ন। অনিমন্ত্রিত চিহ্ন। সেই চিহ্নের হিসাব চাইতে পারিনি কাউকে। রক্তাক্ত দাঁতগুলো দেখে মায়ের আঁচলের মধ্যে গুটিয়ে গেছি।

মিখাইল দা। কোনো স্কুলের গম্ভীরমুখের অঙ্কের মাস্টারমশাই। আমাকে সাঁতার কাটতে শিখিয়েছে। আমি সাঁতার ভুলে ডুবে গেছি। ডুবতে ডুবতে ওর শার্টের ভিতরে দেখেছি চড়ুই পাখি। আমার বারান্দার চড়ুই। রামধনু উঠলে সেই পাখি মিখাইল দার বুকের কাছে আশ্রয় নেয়। সেই পাখির খোঁজ পায়নি কেউ। মা-ও না। পাটিগণিত শিখতে শিখতে আমি দেখেছি সর্পসঙ্গম। দেখেছি শ্রাবণী দিদির ওড়নায় বেঁধে রাখা অদিতির কানের দুল। দেখেছি স্বাভাবিকতা কীভাবে অস্বাভাবিক করে রাখে রাজনীতি।

কৈশোর এক মায়া। পোশাক বদলের খেলা। পাটিগণিত ও মিখাইল দা। চড়ুই পাখি।

ছবিঃ অর্ক ঘোষ

<< কালিজা ২০২২ (৫ম বর্ষ) – সূচীপত্র


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *